বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি দুই কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্বনাথ উপজেলা অলংকারী ইউনিয়নে "মজিদ আমপল্লী এন্ড এগ্রো পার্ক"। এক শত প্রজাতির প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আমগাছ নিয়ে মোট ২৭ বিঘা ( কিয়ার) জমির উপর বিশাল এই এগ্রো পার্কের যাত্রা শুরুর বয়স এখন চার বছর পেরিয়ে। বারোমাসী ও দেশি বিদেশি মিলিয়ে শতপ্রকার আমের অর্গানিক ও বাণিজ্যিক উৎপাদন, ও সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এই বাগানে। আমের মেলা আর মুকুলে চেয়ে গেছে বাগানের প্রতিটি গাছ। বিশ্বের সবচেয়ে দামী জাপানের "মিয়াজাকি" আম ও এই আম পল্লীতে এখন উৎপাদন শুরু হয়েছে। .
.
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোঃ বশির আলী ও জামাল আলী দুই ভাই মিলে পিতার নামে গড়ে তুলেছেন এই মজিদ আমপল্লী এন্ড এগ্রো পার্ক। টেংরার নিজ গ্রামে গড়ে উঠা পার্কে রয়েছে মৎস খামার, গরুর ফার্ম, স্থানীয় জাতের মুরগ ও ভেড়া উৎপাদন , সুপারী, নারকেল, খেজুর, সবরী, লিচু, শাকসবজি, ও উন্নত জাতের কলার সমাহার। এতে কর্মসংস্থান তৈরি, পর্যটক আকর্ষণ এবং পাশাপাশি কৃষির স্বনির্ভরতার মাধ্যমে ফলের অর্গানিক চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিক রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোক্তা বশির আলী ও জামাল আলী ব্যায় করেছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। বেকারত্ব দূরীকরণ ও স্থানীয় যুবকদের মাঝে এই আমপল্লী নিয়ে বাড়ছে এখন আগ্রহ। বেকার সমস্যা দূরীকরণে বশির আলীর মত অন্যান্যা প্রবাসী কিংবা দেশের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে স্থানীয় পর্যায়ে ফল উৎপাদনে চাহিদা পূরণ করে ব্যাপক উন্নতি করা সম্ভব। .
.
অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা মজিদ আমপল্লী এন্ড এগ্রো পার্কের অগ্রগতি ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচর্যা ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বাগান পরিদর্শন করেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা।.
.
রবিবার (২৫ জানুয়ারী) দুপুর বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরে কর্মকর্তাগণ বাগান পরিদর্শন করে উদ্যোক্তা বশির আলীর এমন উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তাঁরা।.
.
কৃষি প্রযুক্তির সহায়তা, পরামর্শ ও পতিত ভুমি কিংবা প্রবাসীদের অনাবাদি পড়ে থাকা জমির উপর বাগান ও খামার তৈরি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন। .
.
এসময় কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন তার বক্তব্যে আরো বলেন, এই বাগানের উদ্যোক্তা প্রবাসী বশির আলী প্রবাসে বসবাস করে দেশের উন্নয়নে এমন অবদান রাখছেন, যা প্রশংসার যোগ্য এবং অন্যান্যাদের জন্য অনুকরণীয়। চাইলে এলাকার অন্যান্য প্রবাসী ও বেকার যুব সমাজের যুবকরা এই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। এতে কর্মসংস্থান তৈরি সহ বেকারত্ব দূরীকরণ হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মুক্তির জন্য কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ।.
.
এসময় বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনমুন হোসেন এগ্রো পার্কের বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার নিকট পরামর্শ চাইলে তাকে সকল প্রকার প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।.
.
কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন কালে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শাহীন উদ্দিনের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মুজাম্মেল হক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বীরেন্দ্র চন্দ্র নাথ ও বিপ্রেশ তালুকদার। .
.
উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সায়েস্তা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী অজিত চন্দ্র দেব, সদস্য সাংবাদিক এস এ সাজু ও বাগানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।.
ডে-নাইট-নিউজ / মোঃ সায়েস্তা মিয়া
আপনার মতামত লিখুন: